• E-paper
  • English Version
  • শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ১১:৩৮ অপরাহ্ন



জার্মানিতে ৩ হাজার বাংলাদেশি শরণার্থীর প্রবেশ

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১২ আগস্ট, ২০১৮
  • ১৬৭ বার পঠিত

গত তিন বছরে তিন হাজারের অধিক বাংলাদেশি শরণার্থী হিসেবে জার্মানিতে প্রবেশ করেছে । তবে খুব অল্পসংখ্যককে আবেদনের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এজন্য অন্যদের দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকাকে চাপ দিচ্ছে জার্মানি। ডয়চে ভেলে এখবর দিয়েছে।

২০১৬ সালে লিবিয়া থেকে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের দেশ ইটালিতে প্রবেশ করেছিলেন বাংলাদেশি কামরুল। একই বছর ইটালি থেকে নানা চেষ্টায় জার্মানি গিয়ে হাজির হন তিনি। ইউরোপের এই দেশটি আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ। তাই রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার পর সহজে কাজ পেয়ে যান তিনি। নিয়মিত কাজ করে ভালো অর্থ উপার্জন শুরু করেন। পরে ২০১৭ সালে তাঁর এক বান্ধবীকে শিক্ষার্থী হিসেবে বাংলাদেশ থেকে জার্মানিতে নিয়ে যায় কামরুল। পরবর্তীতে কিছুদিন পর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হয়ে যায় কামরুলের। হঠাৎ একদিন পুলিশ আসে তাঁর ঠিকানায়। উদ্দেশ্য কামরুলকে বাংলাদেশকে ফেরত পাঠানো। তাঁকে সেদিন পুলিশ খুঁজে পায়নি। খবর পেয়ে তিনি চলে গেছেন ফ্রান্সে। এদিকে, আর তাঁর বান্ধবী রয়ে গেছেন জার্মানিতে।

এদিকে, বাংলাদেশে মুক্তমনা ব্লগার হত্যা শুরুর পর নিজেকে মুক্তমনা পরিচয় দিয়ে জার্মানিতে আশ্রয় নিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বাংলাদেশি যুবক। তিনি জানান, জার্মানিতে তাঁর আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। তিন বছর থাকার অনুমতি পেয়েছেন তিনি।

তবে তিনি কোথায় লেখেন? কীভাবে উগ্রপন্থিদের নজরে পড়লেন? এসব প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন।

জার্মানিতে যারা আশ্রয় পেয়েছেন, যাদের ফেরানো হয়েছে:

জার্মানিতে গত কয়েকবছরে আশ্রয়ের আশায় অবৈধপথে আসা বাংলাদেশির সংখ্যা কয়েক হাজার। জার্মান সরকারের এক পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ সালে জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলেন ২,৬৫৭ জন বাংলাদেশি। সেবছর আশ্রয় পেয়েছেন ১০৯ জন। ২০১৭ সালে অবশ্য আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমে গেছে অনেক। গতবছর জার্মানিতে আশ্রয়ের প্রার্থনা করেন মাত্র ৪৬ জন শরণার্থী। আর আটজনের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। আর চলতি বছরের এপ্রিল অবধি জার্মানিতে আশ্রয়প্রার্থী বাংলাদেশির সংখ্যা ১০১ জন, আশ্রয় পেয়েছেন ৩১ জন।

এদিকে, জার্মানিতে অবস্থানরত কয়েকজন বাংলাদেশি শরণার্থী ডয়চে ভেলেকে জানান, মূলত রাজনৈতিক অস্থিরতা, নাস্তিকতার চর্চা, সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, বিহারি নির্যাতন এবং সমকামিতার কারণে নিপীড়নের শিকার হওয়ার মতো কারণ দেখিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করেন বাংলাদেশিরা। এই সবের মধ্যে কিছুক্ষেত্রে কারণগুলো ব্যক্তিবিশেষে সঠিক হলেও অনেকে অর্থের বিনিময়ে সংগৃহীত ভুয়া নথিপত্র দেখিয়ে আশ্রয় গ্রহণের চেষ্টা করেন।

এদিকে, যেসব বাংলাদেশি শরণার্থীর আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখান করা হয়েছে, তাদের ফেরত পাঠাতেও শুরু করেছে জার্মানি। ২০১৬ সালে আকাশপথে অন্তত ৩৪ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়। ২০১৭ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় অন্তত ৯৯ জনে। আর চলতি বছর বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর হার অনেক বেড়েছে বলে শরণার্থীরা জানিয়েছেন। তবে, জার্মানির পরিসংখ্যান ব্যুরো চলতি বছর এখন অবধি কতজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে তার সঠিক সংখ্যা জানাতে পারেনি।

জার্মানি যেসব কারণে শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়:
জার্মানিতে শরণার্থীরা সাধারণত চারটি কারণে আশ্রয় পেয়ে থাকেন। এগুলো হচ্ছে:

১. শরণার্থীদের রক্ষা :
মূলত বর্ণ, ধর্ম, জাতীয়তা, সামাজিক গোষ্ঠী কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে যারা নিজেদের দেশে নিজেদের নিরাপদ মনে না করে অন্য দেশে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করেন তাদের এই ক্যাটাগরিতে আশ্রয় দেয়ার জন্য বিবেচনা করা হয়। তবে যারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে দেশত্যাগ করেন, এবং অবৈধভাবে জার্মানিতে প্রবেশ করেন, তাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বিবেচনা করা হয় না। আন্তর্জাতিক এবং জার্মান আইন অনুযায়ী, যেসব মানুষ নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির আশায় অবৈধভাবে অন্যদেশে যাচ্ছেন, তারা শরণার্থী নন। ফলে সংঘাতপ্রবণ নয় কিংবা যুদ্ধ চলছে না, এমন দেশের মানুষরা শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় চাইলে অধিকাংশক্ষেত্রেই তা বাতিল হয়ে যায়। তবে যারা আশ্রয় পান, তাদেরকে তিন বছরের জন্য আশ্রয় দেয়া হয়। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সেটা নবায়ন করা হবে কিনা তা পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়।

২. রাজনৈতিক আশ্রয়:

যারা রাজনৈতিক কারণে নিজের দেশে নিগৃহের শিকার হয়েছেন কিংবা হওয়ার আশঙ্কায় আছেন, তাদেরকে এই ক্যাটাগরিতে জার্মানিতে আশ্রয় প্রদান করা হয়। তবে রাজনৈতিক আশ্রয় পেতে চাইলে অবশ্য আশ্রয়প্রার্থীকে নথিপত্র দিয়ে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি তাঁর দেশে নিরাপদ নন। জার্মান সরকারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক আশ্রয় খুব কম মানুষকে প্রদান করা হয়। যারা এই আশ্রয় পান তাদেরকে প্রথমে তিন বছর মেয়াদে বসবাসের অনুমতি দেয়া হয়৷ পরবর্তীতে সেই মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ থাকে।

৩. শর্তসাপেক্ষে সুরক্ষা:

যে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী শরণার্থী বা আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে আশ্রয় পাননি কিন্তু নিজের দেশে ফিরলে মৃত্যুদণ্ড বা অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হতে পারেন, তাকে জার্মানিতে শর্তসাপেক্ষে এক বছরের জন্য বসবাসের অনুমতি দেয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাতের কারণে যদি কেউ দেশে ফিরতে না পারেন তাকেও এই ক্যাটাগরিতে থাকতে দেয়া হয়। তবে একবছর পর তাঁর বসবাসের মেয়াদ বাড়বে কিনা সেটা নির্ভর করছে জার্মান কর্তৃপক্ষের উপর।

৪. জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোয় নিষেধাজ্ঞা:

খুবই দুর্লভক্ষেত্রে এ ধরনের বসবাসের অনুমতি দেয়া হয়। যদি একজন আশ্রয়প্রার্থীর উপরে উল্লেখিত সবগুলো ক্যাটাগরিতে আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হয়, তারপরও জার্মান কর্তৃপক্ষ চাইলে তাঁকে ফেরত পাঠানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে। এই নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় কনভেনশন অনুযায়ী একজন ব্যক্তি তাঁর দেশে ফেরত গেলে তাঁর মানবাধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হবে কিনা সেটা বিবেচনা করা হয়। এক্ষেত্রেও আশ্রয়ের মেয়াদ হয় একবছর। এই সময়ের পর বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করা হয়।

উল্লেখ্য, জার্মানিত যারা আশ্রয় পান তাদের সাধারণত নীল রঙের ‘শরণার্থী ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ দেয়া হয়, যেটি তারা নিজেদের দেশ ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন। তবে এই ডকুমেন্ট কোনভাবেই জার্মান নাগরিকত্ব বা জার্মান পাসপোর্টের সমতুল্য নয়। বরং যে দেশের নাগরিক, ট্রাভেল ডকুমেন্টে সেই দেশের কথা উল্লেখ করা থাকে। সূত্র বৈশাখীটিভি

Facebook Comments



নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..