• E-paper
  • English Version
  • শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ১১:৫২ অপরাহ্ন



‘ভাই আমাকে বাঁচান। আমি মারা যাব।’

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৮
  • ৮৬ বার পঠিত
‘ভাই আমাকে বাঁচান। আমি মারা যাব।'
‘ভাই আমাকে বাঁচান। আমি মারা যাব।'

মানব পাচারকারীর প্রতারণার শিকার হচ্ছে দেশের অনেক পরিবারই। আর এর পরিনাম হচ্ছে সর্বশান্ত। ভিটেমাটি বিক্রি করে হতে হচ্ছে নিঃস্ব। এছাড়াও বিভিন্ন এনজিও’র টাকা পরিশোধ করতে না পেরে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। আবার ওপার হতে রোজই শোনা যাচ্ছে সৌদি আরব থেকে তাদের নির্মম পরিহাসের কথা জানাচ্ছেন প্রবাসীরা। বিদেশের বন্দিদশা থেকে বার বার পরিবারকে দুঃখ-দুর্দশার কথা বললেও মানব পাচারকারীদের প্রতারণায় জিম্মি মাদারীপুরে কয়েকটি পরিবার।

ভূক্তভোগিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ডাসার থানার বালিগ্রাম ইউনিয়নের পান্তাপাড়া গ্রামের মালেক হাওলাদারের ৪ ছেলের মধ্যে ২ ছেলে হেমায়েত হাওলাদার ও এনায়েত হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে সৌদি প্রবাসী। সেই সুবাদে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার বিনিময়ে সৌদি নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট কাজ দিতে পারেনি তারা। তাদের কাউকে কাজ না দিয়ে পুরো টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। ফলে তারা সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছে। দেশে ফেরত আসতে চাইলেও আসতে দেয়া হচ্ছে না। পাসপোর্ট আটকে রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত টাকা দাবি করে প্রায়ই মারধর করা হয়। অনাহারে-অর্ধাহারে এই ভুক্তভোগী লোকগুলোর জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলে দাবি পরিবারের।

তাছাড়াও আরও এমন কিছু পরিবারের অভিযোগ,কালকিনির পান্তপাড়া গ্রামের মঞ্জু তালুকদারের ছেলে ইমন তালুকদার ও মেয়ে জামাই রিপন জমাদ্দার, ইস্রাফিল ও পূর্ব বোতলা গ্রামের মোকলেছ, সাহেবরামপুর গ্রামের হাবিব সরদারের ছেলে রবিউলসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিরীহ লোকজনের কাছ থেকে সৌদি প্রবাসী এনায়েতের স্ত্রী কলেজ পড়ুয়া নিপা আক্তার ও হেমায়েত হাওলাদারের স্ত্রী রিয়া আক্তার ও শ্বশুর খোকন বেপারির যোগ-সাজশে অর্ধকোটি টাকা নিয়ে সৌদি আরব বসবাস করছে আদম ব্যবসায়ী হেমায়েত ও এনায়েত হাওলাদার। এদের বিরুদ্ধে ডাসার থানায় বিদেশ পাচার ও হয়রানিমূলক একাধিক মামলা রয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ।

দুর্দশার চরম সময়ে রবিউল ইসলাম নামে এক ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষে তার মা জানান, ‘রবিউলকে জিম্মি করে বাংলাদেশে তার কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে আরও দেড় লাখ টাকা। হেমায়েতের শ্বশুর ও তার স্ত্রী রিয়ার হাতে রবিউলের মা তুলে দিয়েছেন ধারদেনা করে দেড় লাখ টাকা। আর সৌদি আরবে যাওয়ার সময় এনায়েতের স্ত্রী নিপার হাতে দিয়েছেন ৬ লাখ টাকা।’

ঘটনার এক পর্যায়ে ফোনে রবিউল কান্নাজড়িত কণ্ঠে ব্যাকুল হয়ে বলেন, ‘ভাই আমাকে বাঁচান। আমি মারা যাব। হেমায়েত-এনায়েত আমাকে মাইরা ফালাইব। আমার পাসপোর্ট আটকে রেখেছে। কোনো কাজ দেয় না। আমার কাছে আরও ২ লাখ টাকা চায়। আমাকে বাঁচান ভাই।’

অনুসন্ধানের মদ্যে আরও জানা যায়, বরিশালের মুলাদি থানার আলাউদ্দিন হাওলাদারকেও একই রকম প্রলোভন দেখিয়ে সৌদি আরব পাঠান হেমায়েত তার শ্বশুর খোকন বেপারির মাধ্যমে। বিনিময়ে তার স্ত্রী রিয়া ও শ্বশুর শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট থানার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের হায়দার আলী বেপারির ছেলে খোকন বেপারি ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা নেয়। ফ্রি ভিসা দেয়ার কথা বলে। তবে পরে কোন ফ্রি ভিসা পাননা তারা। বিপরীতে পরে একটি নামসর্বস্ব, অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের ভিসা দেয়া হয়। যে ভিসায় তিনি কোনো কাজ করতে পারেননি। দেশে ফিরে আসতে চাইলে তাকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। অবশেষে মুমূর্ষু অবস্থায় হেমায়েতের খোয়াড় থেকে পাসপোর্ট নিয়ে কৌশলে পালিয়ে পুলিশের সহায়তায় বাংলাদেশে ফিরে আসেন তিনি। লোমহর্ষক মধ্যযুগীয় নির্যাতনের স্মৃতি এখনও তাড়া করে ফিরে আলাউদ্দিন হাওলাদারকে।

এব্যাপারে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) সুমন দেব বলেন, ‘মানবপাচার অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ। যারা এমন অপরাধের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধ জেলা পুশিল সব সময় সচেতন। যদি ডাসার থানায় এদের বিরুদ্ধে মামলা থাকে, তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেউ ছাড় পাবে না।’

এব্যাপারে অভিযুক্ত হেমায়েত হাওলাদা ও এনায়েত হাওলাদারের কালকিনি উপজেলার পান্তপাড়া গ্রামে তাদের নিজ বাড়িতে গেলে পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তদের স্ত্রীরা অন্যত্র পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকেন বলে জানা গেছে।

Facebook Comments



নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..