• E-paper
  • English Version
  • রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন



অবশেষে কওমি সনদের স্বীকৃতির বিল পাস

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
  • ৭৫ বার পঠিত
কওমি সনদের স্বীকৃতির বিল পাস
কওমি সনদের স্বীকৃতির বিল পাস

কওমি মাদরাসা সমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)-এর সনদকে আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীনে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান বিল ২০১৮’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

আজ বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বিলটি পাসের প্রস্তাব উপস্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

বুধবার সংসদে পাসের জন্য তোলা হলে নানা প্রক্রিয়া শেষে বিলটি ভোটে দেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর ফলে বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনে কওমি ছাত্র শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলো।

এর আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নাকচ করা হয়।

গত ১৩ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। আর সেদিনই বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনে বিলটি তোলার কথা জানানো হয়। এর আগে ২০১৭ সালের এপ্রিলেই এই স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত ১০ সেপ্টেম্বরটি বিলটি সংসদে তোলার পর যাচাই বাছাই করে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।

জাতীয় পার্টির সাংসদ সেলিম উদ্দিন বিলটি নিয়ে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ‘এটি ছোট বিল, কিন্তু গুরুত্ব অনেক বেশি। কওমি শিক্ষা ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দিলেও সরকারি কোনো নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মনে হচ্ছে কোনো একটা চাপে এই বিল আনা হয়েছে। এটি বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আলোচনা ও মতামতের প্রয়োজন আছে।’

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসার বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে এবং কওমি মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট ও স্বকীয়তা বজায় রেখে ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীন ‘কওমি মাদরাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) এর সমমান প্রদান বিল আনা হয়েছে।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ১৫ লাখের কাছাকাছি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। বছরে তিন থেকে চার লক্ষ শিক্ষার্থী পাস করে আসেন। তাদের স্বীকৃতি দেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।’

জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘আইনে সরকার বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। হয়ত এর কারণ দেওবন্দের কারিকুলাম অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে এটি করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষায় মাস্টার্সের কারিকুলামের একটি কমা পরিবর্তন করতেও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন লাগে। হয়ত বাস্তবতার কারণেই ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ দেওয়া হয়েছে।’

সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক বিল। আমরা সম্পূর্ণভাবে একমত।…আমি যাচাই বাছাইয়ের পক্ষে নই, আমি চাই বিলটি অবিলম্বে পাস করা হোক।’

কওমি সনদের স্বীকৃতির বিষয়টি এই মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি। আর এই দাবি পূরণের আশ্বাস দেয়ার পর ১৯৯৯ সাল বিএনপি-জামায়াত ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোট করে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রীক রাজনৈতিক দল ইসলামী ঐক্যজোট।

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ধর্মভিত্তিক এই দলগুলোর আক্বিদাগত ব্যাপক পার্থক্য থাকলেও কেবল এই ইস্যুতে তারা ‘শত্রুর’ সঙ্গে হাত মেলাতে রাজি হয়। তবে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এই স্বীকৃতির বাস্তবায়ন হয়নি।

Facebook Comments



নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..