• E-paper
  • English Version
  • শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৪:৫৫ অপরাহ্ন



মশা দিয়েই মশা মারবে গুগল

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৮
  • ২৬ বার পঠিত
মশা দিয়েই মশা মারবে গুগল
মশা দিয়েই মশা মারবে গুগল

বিশ্বজুড়ে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। তাই প্রযুক্তি পণ্য তৈরি করার পাশাপাশি এবার মশা মারতে একযোগে কাজ করবে বিশ্বের নাম্বার ওয়ান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট করপোরেশন ও গুগল।

এজন্য বুধবার মাইক্রোসফট, গুগল ও ক্যালিফোর্নিয়ার লাইফ সায়েন্সেস প্রতিষ্ঠান ভেরিলি একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

জিকা-ভাইরাসসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে উচ্চ প্রযুক্তির অটোমেশন ও রোবোটিকস ব্যবহার করবে মাইক্রোসফট ও গুগল। আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যৌথভাবে তারা উচ্চ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতির পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে।

‘রাক্ষুসে’ স্ত্রী মশাদের তো আর জানা নেই, যে পুরুষ মশাদের ভাল লেগেছে, যাদের সঙ্গে তাদের মিলন হয়েছে, সেই পুরুষ মশাদের শরীরে গুগলের বিজ্ঞানীরা ঢুকিয়ে দিয়েছেন ‘উলবাচিয়া’ প্রজাতির একটি ব্যাকটেরিয়া। যা স্ত্রী মশাদের বন্ধ্যা করে দেয়। ফলে, মিলনের পরেও স্ত্রী মশারা আর ডিম পাড়তে পারবে না। তাই মশার বংশ আর বাড়বে না। মশার বংশ ধ্বংস হতে বেশি সময়ও লাগবে না। ফলে, নির্মূল হবে কোনও এলাকায় ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার মতো ‘এডিস ইজিপ্টাই’ প্রজাতির মশাবাহিত ভয়ঙ্কর রোগের জন্ম ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার যাবতীয় সম্ভাবনাও।

মিলনের ফাঁদে ফেলে মশা দিয়ে মশা মারার এই অভিনব পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন গুগলের মূল সংস্থা ‘অ্যালফাবেট’-এরই আরেকটি ইউনিট ‘ভেরিলি লাইফ সায়েন্স’-এর জীববিজ্ঞানীরা। তাদের উদ্ভাবিত পদ্ধতির পরীক্ষানিরীক্ষাও চালিয়েছেন দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনো কাউন্টিতে। এই ভাবেই গোটা বিশ্বে মশাবাহিত রোগগুলি নির্মূল করা যাবে বলে বিজ্ঞানীদের আশা।

সংস্থার মুখপাত্র ক্যাথলিন পার্কস বলেন, একটি উঁচু মার্সিডিজ ভ্যান ছুটতে ছুটতে ফ্রেসনো কাউন্টির বিশাল একটি এলাকাজুড়ে একটি টিউব থেকে আশপাশের জঙ্গল ও লোকালয়ে ছড়িয়ে দেয় শরীরে বিশেষ এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া (উলবাচিয়া) পুরে দেওয়া প্রায় ৮০ হাজার পুরুষ মশা। যাদের টানে কাছে এসে গোটা এলাকার মেয়ে মশারা মিলনের পর পুরোপুরি বন্ধ্যা হয়ে গেছে।

গবেষণাগারে নিয়ে গিয়ে ওই পুরুষ মশাগুলোর শরীরে ‘উলবাচিয়া’ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া ঢুকিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। এমনকি, বিশেষ ধরনের একটি টিউব থেকে বের করে তাদের বিষে ভরা মেয়ে মশাদের সঙ্গে ‘যুদ্ধে’ নামানোর আগে লেজার রশ্মি দিয়ে তাদের উপর নজরও রেখেছিলেন বিজ্ঞানীরা।

তাদের দাবি, এই পদ্ধতিতেই সবচেয়ে সহজে আর সবচেয়ে কম খরচে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিষে ভরা মশাদের বংশ ধ্বংস করা যাবে। সূত্র: আনন্দবাজার।

Facebook Comments



নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..